সোমবার, ১৪ Jun ২০২১, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

নারী পাচার চক্রের ‘মূল হোতা’ আশরাফুলসহ রিমান্ডে ৪

নারী পাচার চক্রের ‘মূল হোতা’ আশরাফুলসহ রিমান্ডে ৪

সিলেট ইউকে ডেস্ক:

নারী পাচার চক্রের ‘মূল হোতা’ ঝিনাইদহের আশরাফুল ইসলাম ওরফে বস রাফিসহ চারজনকে চার দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট বেগম ইয়াসমিন আরা আজ বুধবার এ আদেশ দেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত অপর তিন আসামি হলেন যশোরের সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা, ইসমাইল সরদার ও আবদুর রহমান শেখ।

আদালত সূত্র বলছে, হাতিরঝিল থানায় করা মানব পাচার মামলায় গ্রেপ্তার আশরাফুল ইসলামসহ চারজনকে আদালতে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করে পুলিশ। উভয় পক্ষের শুনানি নিয়ে আদালত প্রত্যেকের চার দিন রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার বিকেলে কারওয়ান বাজারে র‍্যাবের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক খন্দকার আল মঈন জানান, গত সোমবার থেকে গতকাল সকাল পর্যন্ত ঝিনাইদহ সদর, যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোলে অভিযান চালিয়ে আশরাফুলসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব কর্মকর্তারা বলেছেন, দীর্ঘদিন ভারতের বেঙ্গালুরুতে অবস্থান করা আশরাফুল গত পাঁচ বছরে পাঁচ শতাধিক নারীকে ভারতে পাচার করেছেন। এই নারীদের একটি অংশকে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে এবং আরেকটি অংশকে দুবাইসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে বিক্রি করা হয়েছে। পাচারের শিকার নারীদের বড় অংশই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের। বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ ও বিউটি পারলারে ভালো বেতনে চাকরির কথা বলে তাঁদের ভারতে নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে টিকটক ভিডিওর ফাঁদে ফেলে ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের তরুণীদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে পাচার করা হয়েছে।

এই টিকটক ভিডিওর ফাঁদে ফেলেই ভারতে নির্যাতনের শিকার তরুণীকে দলে ভিড়িয়েছিলেন ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা রাফিদুল ইসলাম ওরফে টিকটক হৃদয় বাবু (২৬)। তিনি কীভাবে ভারতে তরুণীদের পাচার করতেন, এর তদন্ত করতে গিয়েই আশরাফুল ও তাঁর সহযোগীদের খোঁজ পাওয়া গেছে বলে র‍্যাবের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। তাঁদের ভাষ্যমতে, এই চক্রে অন্তত ৫০ জন জড়িত।

ভাইরাল ভিডিওতে বাংলাদেশি তরুণীকে নির্যাতনকারীদের মধ্যে যে নারীকে দেখা যায়, তিনি গ্রেপ্তার সাহিদা বেগমের মেয়ে তানিয়া। সাহিদার দুই মেয়ে তানিয়া ও সোনিয়া নারী পাচারে জড়িত। এ ছাড়া গ্রেপ্তার ইসমাইল ও আরমান শেখ নারী পাচারের কাজে জড়িত ছিলেন।

খন্দকার আল মঈন বলেন, এই চক্রের প্রধান আশরাফুলের বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপায়। তিনি অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। আট বছর ধরে তাঁর বেঙ্গালুরুতে যাতায়াত। তিনি সেখানে ট্যাক্সি চালাতেন এবং হোটেল-রিসোর্টে কর্মচারী হিসেবে চাকরি করতেন। সেখানকার আঞ্চলিক তামিল ভাষা শিখে ফেলেন তিনি। একপর্যায়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে নারী পাচারে যুক্ত হন। গত পাঁচ বছরে তিনি বাংলাদেশ থেকে পাঁচ শতাধিক নারীকে পাচারের কথা স্বীকার করেছেন।

দুই বছর আগে এই আশরাফুলের সঙ্গে ঢাকার মগবাজারের টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। এরপর টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে তিনি অর্ধশতাধিক তরুণীকে বেঙ্গালুরুতে পাচার করেছেন। তাঁরই নির্দেশে টিকটক হৃদয় ফেসবুকে গ্রুপ খুলে তরুণীদের মডেল বানানোর কথা বলে আকৃষ্ট করতেন। টিকটক হৃদয় ওই মেয়েদের দিয়ে টিকটক ভিডিও বানাতেন। পরে তাঁদের ভালো বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে নিয়ে যেতেন।

র‍্যাবের মুখপাত্র বলেন, নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীদের ভালো চাকরির কথা বলে ভারতে পাচার করা হতো। আর মধ্যবিত্ত পরিবারের কম বয়সী সুন্দরী মেয়েদের উচ্চবেতনে চাকরির কথা বলে মধ্যপ্রাচ্যে পাচার করছিল এই চক্র।

যেভাবে বেঙ্গালুরুতে নেওয়া হতো: খন্দকার আল মঈন জানান, সীমান্তবর্তী বেনাপোল, ঝিনাইদহ ও সাতক্ষীরায় এই চক্রের নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন বাড়ি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে নারীদের নিয়ে প্রথমে এসব বাড়িতে রাখা হতো। সেখান থেকে বৈধ-অবৈধ উপায়ে সীমান্তে ‘ম্যানেজ’ করে নেওয়া হতো কলকাতায়। সেখান থেকে নেওয়া হতো বেঙ্গালুরুতে। যাত্রাপথের বাড়িগুলোতে থাকার সময় মেয়েদের জোর করে মাদক, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে এবং যৌন নির্যাতন করে ভিডিও করা হতো। আশরাফুল বেঙ্গালুরুতে ওই সব ভিডিও ফাঁস করার ভয় দেখিয়ে তরুণীদের যৌনকর্মে বাধ্য করতেন। তিনি মেয়েদের ১০-১৫ দিনের জন্য খদ্দেরদের হাতে তুলে দিতেন। আশরাফুল নিজেই মেয়েদের পরিবহন ও থাকার জায়গা করে দিতেন। এ জন্য তিনি ১০-১৫ হাজার টাকা করে পেতেন। ভারতে নির্যাতনের শিকার তরুণীকে আশরাফুলের পরামর্শে বেনাপোলে সাহিদার বাড়িতে রাখা হয়েছিল। ভারতের কেরালায় আশরাফুলের সহযোগী সবুজের ফ্ল্যাটে তাঁর ওপর নির্যাতনের ওই ভিডিও করা হয়েছিল। বাংলাদেশি দুই তরুণীকে পালিয়ে আসতে সহায়তার অভিযোগে তাঁর ওপর ওই নির্যাতন হয়েছিল বলে দাবি করেছেন আশরাফুল।

 44 বার পঠিত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© All rights reserved © SYLHETUKNEWS.COM
Design BY Web Home BD
SUKNEWS