রবিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম: ২০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়ম: ২০ শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা

হবিগঞ্জের বাহুবলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিয়মের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় ২০ সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ প্রদান করেছেন। ইতিমধ্যে হাজীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার দেব এর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে তার বেতন ভাতা।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসক) মো: আতাউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি পত্রে এ আদেশ প্রদান করেন।

অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন, আলিয়াপুঞ্জি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শেখ নার্গিস আক্তার, রাউদগাও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: জলি বেগম, একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী, ফতেহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: ইমরানা আক্তার, পূর্ব জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: জান্নাতুল ফেরদৌস, জয়পুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লাকী আক্তার শিউলী, রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোছা: রুনা আক্তার, হাফিজপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কল্পনা রাণী চক্রবর্তী,

ভেড়াখাল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রীপা রাণী আচার্য্য, করিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তাজুল ইসলাম, ভূগলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল হক, রাজাপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সত্যব্রত পাল, মিরপুর ১ নং সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হেনা দেব, গাংধার সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আয়েশা খাতুন, দওপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সোমা ভট্রাচার্য্য, শাহপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রদীপ চন্দ্রপাল, তগলী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রতিভা রাণী ঘোষ, নিজগাঁও সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পরিমল চন্দ্র দেব, দত্তপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিজা আক্তার।

ওই পত্রে অভিযুক্ত শিক্ষকদেরকে তৎপরবর্তী সকল পরীক্ষায় পরীক্ষক, নিরীক্ষক ও প্রধান পরীক্ষকের দায়িত্ব হতে বিরত থাকার কথাও বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার্থীর খাতা ও নম্বর ফর্দে ভুয়া নম্বর প্রদান এবং নম্বর কাটাকাটি করে বৃদ্ধি করা হয়েছে মর্মে মোস্তাফিজুর রহমান রিয়াদ নামক একজন পরীক্ষার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। পরে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার জসিম উদ্দিন তৎকালীন সহকারী কমিশনার রফিকুল ইসলামকে তদন্তভার প্রদান করেন। প্রাথমিক তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতাও পেয়েছেন বলে জানিয়ে ছিলেন ওই তদন্তকারী কর্মকর্তা।

২০১৮ সালের উপজেলার প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় পাঁচজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সন্তান বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করেন। তাদের স্কুলের সাময়িক পরীক্ষা এবং মডেল টেস্ট পরীক্ষায় তারা ৪০০ নম্বরের বেশি পায়নি তারা সমাপনী পরীক্ষায় প্রায় ৬০০ নম্বর পেয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পরীক্ষক ও নিরীক্ষককে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে শিক্ষকরা তাদের সন্তানদের বৃত্তি ফাইনাল করেন। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করেন, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

এ ব্যাপারে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল ওয়াহেদ জানান, আমাদের কার্যক্রম চলছে, প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি ডিডি স্যার দেখেন বলে দ্রæত হয়ে গেছে। সহকারী শিক্ষদের বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসার দেখেন, তিনি ব্যবস্থা নিবেন।

 129 বার পঠিত

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© All rights reserved © SYLHETUKNEWS.COM
Design BY Web Home BD
SUKNEWS