বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ১২:২১ পূর্বাহ্ন

দেশে দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়া কতটা সহজ?

দেশে দুর্নীতি থেকে মুক্তি পাওয়া কতটা সহজ?

যে ১০ টি বিষয়ের সঙ্গে জড়িত থাকলে তিনি আওয়ামী করতে পারবেন না এবং যদি এই গাইড লাইন গুলি অনুসরণ করা হয়, ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা হয় তবে বাংলাদেশে সাধারণ মানুষ তৃণমূল থেকে দুর্নীতির ক্ষেত্রে শূন্য সহনশীলতায় দেশ হয়ে উঠবে এক বিশাল উত্সাহ। আসুন সেগুলি দেখতে দিন এবং প্রকাশিত হিসাবে তাদের কার্যকারিতা পরীক্ষা করে দেখুন। সাম্প্রতিক অভিযানে আওয়ামী লীগ শুধু ধরপাকড় নয় বরং দলকেও শুদ্ধ করতে চায়। দলের মধ্যে একটা শুদ্ধাচার নীতি বা কৌশল প্রণয়ন করতে চায়। আওয়ামী লীগের দায়িত্বশীল সূত্রগুলো এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মীদের বিভিন্ন অপকর্ম নিয়ে দেশে তোলপাড় চলছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বিভিন্ন ছোটবড় নেতার বাড়ি কিংবা অফিসে অভিযান চালাচ্ছে। উদ্ধার করছে কোটি কোটি টাকাজাতির পিতার আদর্শে গড়া একটি সংগঠনের জন্য এরকম কলঙ্ক দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করছে আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। এজন্যই আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা মনে করছে যে, আওয়ামী লীগের ভিতরে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা উচিত। একজন সংগঠনের নেতাকর্মী কি করতে পারবেন কি করতে পারবেন না সে সম্পর্কে সুস্পষ্ট গাইড লাইন থাকা দরকার। এজন্যই আগামী কাউন্সিল অধিবেশন সামনে রেখে আওয়ামী লীগ একটি শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ন করছে। এই শুদ্ধ কৌশল অনুসরন না করলে দলের ভিতর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কোন দল থেকে কে এসেছেন তার হিসেব করে এখন লাভ নেই। বড় কথা হচ্ছে তারা আওয়ামী লীগার এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। যখন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে তখন তারা আওয়ামী লীগপন্থী। তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় আমাদের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা থাকা প্রয়োজন। কি করা যাবে কি করা যাবে না এই সম্বন্ধে নেতাকর্মীদের সুষ্পষ্টভাবে নির্দেশনা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি। জানা গেছে, আওয়ামী লীগের কাউন্সিল উপলক্ষে গঠিত একটি উপকমিটিকে এই শুদ্ধাচার কৌশল প্রণয়ণের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন যুগ্ন সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে এই কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে ১০ টি বিষয়কে চিহ্নিত করেছে যে বিষয়গুলোর সঙ্গে জড়িত থাকলে একজনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। তিনি আওয়ামী লীগ করতে পারবেন না।
এই ১০টি বিষয়ের মধ্যে রয়েছে: –
১. কমিটি বাণিজ্য করা যাবে না:
গত ১০ বছরে আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো কমিটি বাণিজ্য। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগে কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। টাকার বিনিময়ে অযোগ্য সুবিধাবাদী এবং সন্ত্রাসী টেন্ডারবাজদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। তারা কমিটির পরিচয় ব্যবহার করে অপকর্ম করেছে। এই কমিটি বন্ধ করা হবে। শুধুমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে অথবা কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় কমিটি গঠন করা হবে। কমিটি বাণিজ্যের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২. কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া সংগঠনে কাউকে নেওয়া যাবে না:
দেখা যাচ্ছে যে, আওয়ামী লীগের যে সমস্ত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তার একটি বড় অংশই হাইব্রিড। তারা বিভিন্ন দল থেকে আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ করেছে। অনুমোদন ছাড়া দলে সুবিধাবাদীরা জায়গা করে নিয়েছে। এটা বন্ধের জন্য আওয়ামী লীগের নতুন নীতিমালায় বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন ছাড়া কাউকে দলে নেওয়া যাবে না।
৩. টেন্ডারের জন্য তদবির করা যাবে না:
টেন্ডার বাণিজ্য আওয়ামী লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়েছে। ক্ষমতায় থাকার কারণে আওয়ামী লীগের একটি বড় অংশের নেতাকর্মীরা টেন্ডার বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকেছেন। প্রভাব বিস্তার করে টেন্ডার বিক্রী করে দেওয়া বা কাজ না করার একটি প্রবণতা লক্ষ করা গেছে। এজন্যই আওয়ামী লীগ তার নতুন নীতিমালায় নির্দেশনা দিয়েছেন। তাতে বলা হয়েছে, টেন্ডারের জন্য কারো কাছে তদ্বির করা যাবে না। তবে অবশ্যই বৈধ ব্যবসা করা যাবে। যোগ্যতার ভিত্তিতে টেন্ডারের কাজ পেলে কোন অসুবিধা নেই।
৪. উন্নয়ন কাজে হস্তক্ষেপ করা যাবে না:
দেখা গেছে অনিয়মের সূত্রপাত হয় বিভিন্ন স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়নগুলোতে তারা হস্তক্ষেপ করে। তখন প্রশাসন বাধ্য হয়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের দায়িত্ব ওই নেতাকে কাজ দিয়ে বড় রকম কমিশন হাতিয়ে নেয়। এটা বন্ধ কারার জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জন্য উন্নয়নকাজে প্রশাসনের উপর হস্তক্ষেপকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।
৫. আটক ব্যক্তির জন্য থানায় তদবির করা যাবেনা:
আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের একটা বড় অশুভ প্রবণতা দেখা দিয়েছে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজ ছিনতাইকারীদের জন্য থানায় তদবির করা এবং এখান থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী বড় অংকের টাকা উপার্জন করে বলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে অভিযোগ গেছে। সেই জন্যই আওয়ামী লীগ নতুন নীতিমালায় নির্দেশনা দিচ্ছে আটক ব্যক্তির জন্য থানায় তদবির করা যাবেনা।
৬. নিয়োগ বাণিজ্য:
আওয়ামী লীগের বড় মাথা ব্যাথার কারণ হয়ে দাড়িয়েছে নিয়োগ বাণিজ্য। পুলিশের কনস্টেবল থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নিয়োগের জন্য আওয়ামী লীগের ছোট বড় সব পর্যায়ের নে*তারাই তদবির করে থাকেন এজন্য নিয়োগে তদবির নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ।
৭. মাদক ব্যবসা বা মাদক সেবীদের প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা:
সারাদেশের আইন প্রযোগকারী সংস্থার পাঠানোর তথ্যের ভিত্তিতে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়েছে মাদকসেবী এবং মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আওয়ামী লীগ নেতাদের আশ্রয়ে-প্রশ্রয়ে ও মদদে। এজন্য মাদকসেবী এবং ব্যবসার সঙ্গে জড়িত কারও সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সম্পর্ক রাখতে পারবেনা।
৮. সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা:
আওয়ামী লীগের নেতারা বিশেষকরে উচ্চ পর্যায়ের নেতারা যারা এমপি-মন্ত্রী হয়েছেন তাদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য এবং শক্তিমত্তা প্রদর্শন করার জন্য সন্ত্রাসী পালেন এবং এজন্য আওয়ামী লীগ তার শুদ্ধাচার কৌশলে বলছে, সন্ত্রাসী হিসাবে মামলা আছে এমন কাউকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়া যাবেনা।
৯. জঙ্গিবাদ:
আওয়ামী লীগের একটা বড় সমস্যা জঙ্গিবাদ। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে যেন জঙ্গিবাদ লালন না হয় এজন্য আওয়ামী লীগ তার শুদ্ধাচার কৌশলে বলেছে জঙ্গীবাদের জড়িত অভিযুক্তদের পক্ষে কোন রকম তৎপরতা করা যাবেনা।
১০. নারী নির্যাতন কিংবা যৌন হয়রানি:
এধরনের অপতৎপরতার সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোন পর্যায়ের কর্মী বা নেতা থাকতে পারবেনা। দলের ভিতর তার বিরুদ্ধে শাস্তি মূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতারা বলেছেন, আগামী কাউন্সিরের আগে স্থানীয় পর্যায়ে সম্মেলন গুলো হবে এই সম্মেলনে দশটি নীতি সুনির্দিষ্ট ভাবে বসানো হবে এবং যারাই এই দশটি নীতি লঙ্ঘন করবে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
আমার মতে দুর্নীতির ফলে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের সকলকে সচেতন হওয়া দরকার এবং আমাদের সবার দায়িত্ব আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন তা অর্জনে সহায়তা করার জন্য।
২৯ সেপ্টেম্বর 2019, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউইয়র্কের ভাষণে স্পষ্টভাবে বলেছিলেন যে সমস্ত দুর্নীতি বন্ধ হয়ে গেলে আমরা কীভাবে উপকৃত হতে পারি। তিনি আমাদের আরও অনুরোধ করেছেন যে এইগুলি কোথায় ঘটছে খুঁজে বের করব। এখানে এটি 24 শে সেপ্টেম্বর 2019 বিডি 24.com এ অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল।
আমার বিনীত মতে, আমি বিশ্বাস করি যে এতগুলি সংখ্যাগরিষ্ঠ দুর্নীতি কোথায় ঘটছে তা দেখতে খুব সহজ। তার বক্তব্যে আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতি বন্ধে কী করছেন বললেন এবং আমার মতে খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে যে এটি ইউপি সদস্য, চেয়ারম্যান, ইউএনও, পিআইও, এসি ল্যান্ড, এমপি, ডিসি এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের কাছ থেকে শুরু হয়েছিল – এটি বন্ধ করতে হবে তৃণমূল থেকে দেশের সব সমস্ত মন্দ এবং দুর্নীতিগ্রস্থ। বাংলাদেশের এই সাধারণ মানুষরা তাদের জীবনের সময়ের মধ্যে উন্নতি কাজ এবং পরিবেশ থেকে উপকৃত হওয়ার যোগ্য। আসুন আমরা খুব সাধারণ লোকদের দুর্নীতির সচেতনতা পেতে তাদের সকলকে সাহায্য করুন যারা আমি বিশ্বাস করি যে তাদের সর্বাধিক উপকৃত হয়েছে!
আমি আরও বিশ্বাস করি যে দেশের সর্বাধিক দুর্নীতি দ্রুত সমাধান করা হবে যদি কেবল আমাদের উদ্দেশ্য, ইচ্ছা এবং তাত্ক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণের সংস্থান থাকে। উদাহরণস্বরূপ, সহায়তা এবং সহায়তার জন্য প্রদত্ত সমস্ত তহবিল, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি এবং সেতু নির্মাণ প্রকৃত স্থান থেকে যেখানে ব্যয় করা উচিত তা দায়বদ্ধ। যে কোনও অনিয়ম হাইলাইট করা হয়, দায়বদ্ধদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং একটি উদাহরণ তৈরি করা যাতে এটি সবার জন্য ভবিষ্যতের অন্বেষণকারী হিসাবে কাজ করে। বাকিগুলি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জারি করা উপরের ১০ টি উপরোক্ত গাইডলাইনগুলির সাথে নির্ভরশীল এবং সেগুলি যদি সমস্ত দুর্নীতির মধ্য দিয়ে অনুসরণ করা হয় তবে কোনও দিনই দুর্নীতি আর হবে না! স্থানীয় থানা পর্যায়ে যা ঘটে থাকে তাদের উপরোক্ত বর্ণনার মতোই একই পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। আমার ব্যক্তিগত মতে, twenty-first শতাব্দীর এই বাংলাদেশে আমাদের সকলের উচিত এই দুর্নীতির বিরুদ্ধে উঠে দাঁড়াতে এবং তাদের পুরোপুরি আমাদের ভূমি থেকে মুছে ফেলা এবং আমরা সম্মিলিত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পরিবারের জন্য, আমাদের শিশু, সমাজ এবং আমাদের দেশর জন্য যে লক্ষ্য স্থির করেছেন, তা অর্জনে আমরা একসাথে পছন্দসই ফলাফল অর্জনে সহায়তা করি। আমি বিশ্বের সকল উন্নয়নশীল দেশের শীর্ষে বাংলাদেশকে দেখার আগ্রহী এবং আমি জানি যে প্রবীণ রাজনীতিবিদদের কাছ থেকে সামান্য প্রচেষ্টা করা হলে বর্তমান দুদকের দায়িত্বশীল কর্মীরা কোনও বিলম্ব ছাড়াই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বর্ধিত শক্তি ও সংস্থান নিয়ে আরও প্রসারিত করতে পারবেন।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© All rights reserved © SYLHETUKNEWS.COM
Design BY Web Home BD
SUKNEWS