বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২০, ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন

দোয়ারাবাজারে কবরস্থানের উপর রাস্তা নিয়ে বিরোধ চরমে

দোয়ারাবাজারে কবরস্থানের উপর রাস্তা নিয়ে বিরোধ চরমে

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদে গোরেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘ দিন যাবত দু-পক্ষের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ, সংঘাত-সংঘর্ষ চলছে। এক পক্ষের দাবি এই জায়গায় কোন কবরস্থান নেই। আর অন্য পক্ষ বলছে ১৫০ বছর ধরে আমাদের গ্রামের লোকজন মৃত ব্যক্তিদের দাফন করেন। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিহত নবালক ব্যক্তিদের দাফন করে থাকেন। বর্তমানে মেম্বার আলী হোসেন তার জায়গা রক্ষা করতে পুরাতন রাস্তা পুন:নির্মান করার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা করেছে।

এই রাস্তা নিয়ে হয়েছে নানা অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ। নিজ স্বার্থ হাসিল করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলো একটি কুচক্রী মহল। কয়েকবার সংঘর্ষের ঝুঁকি ও মুখোমুখি হতে হয় গ্রামের এই দুটি পক্ষকে।

অভিযোগ উঠেছে দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদে গোরেশপুর গ্রামের পূর্বপাড়ার সঙ্গে যোগাযোগের রাস্তা পূন:নির্মানের জন্য ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলে পূন:নির্মানের কাজ না করে কবরের উপর দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ করার। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করে।

জানা গেছে, দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের বাদে গোরেশপুর গ্রামের লোকজন গেল ২৫-৩০ বছর ধরে একটি রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন। এ রাস্তাটি পূন:নির্মাণ করতে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ‘‘অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির’’ দ্বিতীয় পর্যায় আওতায় ২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। রাস্তাটি পূন:নির্মাণ না করে দোয়ারাবাজারের ইউএনও কাজী মহুয়া মমতাজ নিজের নেতৃত্বে ধাঙ্গা পুলিশ নিয়ে যে রাস্তাটি পূন:নির্মানের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয় সেই রাস্তাটি বাদ দিয়ে প্রকল্পের টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা নির্মান করেন। তখন তিনি কবরস্থানের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করায় স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ইউএনও কাজী মহুয়া মমতাজ রাস্তাটি নির্মান করতে সক্ষম হয়েছেন। এছাড়া যে প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে সেই প্রকল্পে ভূয়া ঠিকানা ও নাম দিয়ে প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য বিএনপি কর্মী আলী হোসেন বরাদ্দ নিয়ে আসেন। কাজটি ২৫ মার্চ ২০১৮ সাল থেকে ২৫ মে ২০১৮ সনে শেষ করার কথা থাকলেও কাজ হয় চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের শেষ দিনে। কাজের অর্থ হাতিয়ে নিতে ব্যর্থ হলেও সিংহাভাগ অর্থ হাতিয়ে নেন ইউপি সদস্য আলী হোসেন। তিনি নিজের জায়গা রক্ষা করতে কবরস্থানের উপর দিয়ে নতুন করে রাস্তা নির্মান করেন। এনিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করলে তৎকালিন দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নেতৃত্বে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখে নতুন রাস্তা নির্মান করা হয়। তখন স্থানীয়রা যে রাস্তার জন্য টাকা এসেছে সেই রাস্তায় যেন কাজ হয় এমন দাবি করলে ইউএনও ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তা নির্মান করেন। এ বিষয়ে ইউএনও, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় ইউপি সদস্যকে অভিযুক্ত পৃথক পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয় বায়তুল আমান গোরেশপুর জামে মসজিদের মোতায়াল্লী জয়নাল আবেদীন। তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বলে জানা গেছে।

এবিষয়ে অভিযোগকারী জয়নাল আবেদীন বলেন, সরকার জনস্বার্থে আমাদের রাস্তা পুন:নির্মান করার অনুদান দিলেও দোয়ারাবাজারের তৎকালিন ইউএনও, দোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও আমাদের মেম্বার নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা কবরের উপর দিয়ে নির্মাণ করেছেন। এই কবরস্থানে ১৫০ বছর ধরে আমাদের গ্রামের লোকজন মৃত ব্যক্তিদের দাফন করেন। এখানে মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়াও হিন্দু সম্প্রদায়ের নিহত নবালক ব্যক্তিদের দাফন করে থাকেন। বর্তমানে মেম্বার আলী হোসেন তার জায়গা রক্ষা করতে পুরাতন রাস্তা পুন:নির্মান করার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা দিয়ে নতুন রাস্তা করেছে।

এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন বলেন, এক প্রকল্পের টাকা দিয়ে অন্যের স্বার্থ হাসিলের জন্য নতুন করে রাস্তা নির্মান করা খুবই দুঃখজনক। যে রাস্তা করা হয়েছে সে রাস্তাটিতে নামমাত্র কাজ করিয়ে সম্পুন্ন টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভুয়া নাম-ঠিকানা দিয়ে প্রকল্প পাস করানো হয়েছে। এনিয়ে আমি জেলা প্রশাসক, সুনামগঞ্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছি।

মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন আরও বলেন, আমি চলতি বছরের মে মাসের ১৬ তারিখ তথ্য অধিকার (তথ্য প্রাপ্তি সংক্রান্ত) বিধিমালার বিধি-৩ মোতাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসারের বরাবর আবেদন করেছি। দুঃখজনক হলেও এখন পর্যন্ত আমাদের আবেদনের কোনো প্রতিত্তোর পাই নি।
স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, গেল ২০ বছর পূর্বে এ রাস্তাটি আমাদের দীর্ঘদিনের মেম্বার মোহাম্মদ নুর উদ্দিন রাস্তাটি নির্মান করেন। সেসময় থেকে আমরা এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে আসছি। এখন কবরের উপর দিয়ে রাস্তা নির্মান করা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে সাবেক দীর্ঘদিনের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ নুর উদ্দিন বলেন, আমি যখন পুরনো রাস্তা নির্মাণ করি তখন আমারও চিন্তাভাবনা ছিল নতুন যে রাস্তা হচ্ছে সেই জায়গা দিয়ে রাস্তা নির্মাণ করার। কিন্তু আমাদের এলাকার বয়োজষ্ঠ্য মুরব্বী হাজী মনোফর আলী সেই জায়গা করব রয়েছে বলে জানালে আমি সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়াই এবং যে রাস্তাটি দিয়ে এলাকার লোকজন চলাচল করে আসছেন সেই রাস্তা নির্মাণ করি।
তবে বারবার ইউপি সদস্য আলী হোসেন’র সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

এব্যাপারে বুধবার (২৫ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কাজী আনোয়ার মিয়া আনুর সাথে যোকাযোগ করলে তিনি বলেন- আমি তাদের কাছ থেকে জায়গাটি চেয়ে রাস্তা নির্মান করি। এখন তাদের দাবি রাস্তাটি করস্কানের উপরে হয়েগেছে। তিনি বলেন, আমরা সবাই একদিন কবস্তানে মাটির নিচে যেতে হবে। তাদের দাবি যেহেতু এটি কবস্তানের উপরতিয়ে হয়েগেছে তাহলে আমি আর এই রাস্তার কোন কথায় নাইয়।

একপ্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- ‘‘হা ঠিক আছে আমি জনগণের প্রতিনিধি কিন্তু এই রাস্তা নির্মাণ নিয়ে অনেকবার আমি বসেছি কিন্তু কোন সমাধান পাইনি। তাই আমি আর এ যামেলায় থাকতে চাইনা’’।

Spread the love
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply




© All rights reserved © SYLHETUKNEWS.COM
Design BY Web Home BD
SUKNEWS